| বঙ্গাব্দ

বিএনপির সাথে সমঝোতা নেই, ৩০০ আসনে এককভাবে লড়বে গণঅধিকার পরিষদ | ২০২৫ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-12-2025 ইং
  • 3958021 বার পঠিত
বিএনপির সাথে সমঝোতা নেই, ৩০০ আসনে এককভাবে লড়বে গণঅধিকার পরিষদ | ২০২৫ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: গণঅধিকার পরিষদ

বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হচ্ছে না: এককভাবে ৩০০ আসনেই লড়বে গণঅধিকার পরিষদ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে না গণঅধিকার পরিষদ। নুরুল হক নুর নেতৃত্বাধীন এই দলটি এককভাবে দলীয় প্রতীকে (ট্রাক) দেশের ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন হচ্ছিল, তখন থেকেই এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬৬-র ছয় দফার মধ্য দিয়ে বাঙালি তার স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখেছিল। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার কাজ শুরু হয়। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও পরবর্তী সামরিক শাসন দেশের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়।

১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাব সবসময়ই দৃশ্যমান ছিল। ২০০৬-০৮ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার দ্বারপ্রান্তে।

গণঅধিকার পরিষদের অনমনীয় অবস্থান গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার দল কোনো বড় রাজনৈতিক জোটের ছায়ায় নয়, বরং নিজেদের স্বতন্ত্র শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, "গণঅধিকার পরিষদ একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হতে চায়। আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সাথে যেমন কোনো আপস করিনি, তেমনি আগামী নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাই।"

নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ও আগামী পরিকল্পনা গতকালের (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) নির্বাহী কমিটির সভায় দলের আগ্রহী মনোনয়ন প্রত্যাশী ও অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নেতারা তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তারা বড় দলের সাথে সমঝোতা করে আসন ভাগাভাগির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। এর মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার যে গুঞ্জন ছিল, তার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটল।

জানা গেছে, আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদ তাদের এই চূড়ান্ত অবস্থান জাতির সামনে পরিষ্কার করবে। ইতোমধ্যে দলটির মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫২ থেকে ২০২৪-এর প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ছিল মুখ্য। নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ সেই তারুণ্যের শক্তিকে পুঁজি করেই ৩০০ আসনে লড়াইয়ের সাহস দেখাচ্ছে। তবে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলের সঙ্গে সমঝোতায় না যাওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি তারা ভালো ফলাফল করতে পারে, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্বিদলীয় বলয় ভেঙে একটি শক্তিশালী তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।


সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি বিভাগ)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক। ৩. গুগল নিউজ এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নথি (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency